২৩ Jul, ২০২৬
ছবি: ভূমি অধিগ্রহণে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ, দালালচক্রের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি
ভূমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে জাল কাগজপত্র তৈরি, ভুয়া স্থাপনা দেখিয়ে ক্ষতিপূরণ উত্তোলন এবং দালালচক্রের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এসব অনিয়ম করে আসছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব অনিয়মের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় ধরনের দুর্নীতির ঘটনা সামনে আসবে। তাদের ভাষ্য, প্রকল্পের আরও অনেক অনিয়মের তথ্য ও প্রমাণ পর্যায়ক্রমে প্রকাশ পেলে “বিড়াল থলে থেকে বেরিয়ে আসবে”। অভিযোগ রয়েছে, দালালচক্র নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এতে সাধারণ ভূমির মালিকরা আতঙ্কে থাকেন এবং অনেকেই অভিযোগ করতেও সাহস পান না। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রভাব খাটানোর পাশাপাশি নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্প এলাকায় একটি পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের মালিকানা জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে পরিবর্তন করে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আত্মসাৎ করা হয়েছে। জানা যায়, গভীর নলকূপটি চারজনের নামে ছিল। তাদের মধ্যে রুহুল আমিন ও নূরুল আমিন মারা গেছেন। জীবিত দুই মালিকের একজন ওমর ফারুক, যিনি দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন এবং অপরজন জহরুল আমিন, যিনি গ্রামেই বসবাস করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত মালিকদের অজান্তে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে দালালচক্র ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, পুরো ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে ভুয়া স্থাপনা, জাল কাগজপত্র, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও অর্থ বিতরণের সব নথি যাচাই করা হোক। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, আত্মসাৎ হওয়া সরকারি অর্থ উদ্ধার এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
এদিকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ইতোমধ্যে বদলিজনিত কারণে অন্য কর্মস্থলে চলে যাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে ভূমি অধিগ্রহণ অফিসে "দালাল থেকে সাবধান" শীর্ষক সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙানো থাকলেও অভিযোগে অভিযুক্ত দালালদের নিয়মিত অফিসে যাতায়াত করতে দেখা যায় বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, এ সড়ক প্রকল্পের অন্যান্য মৌজায় ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
Good news
Good