২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ডা.এম.এ.মান্নান,
ছবি: মরদেহ
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শশুর বাড়ি গিয়ে নিলুফা আক্তার মিলু (৪০) নামের এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। স্ত্রীকে হত্যার পর গলায় ও পেটে ছুরিকাঘাত করে আত্ম হত্যার চেষ্টা করে স্বামী হযরত আলী। এ সময় ঘটনা স্থলে শাশুড়ি এগিয়ে আসলে জামাতা তাকেও কুপিয়ে আহত করে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮ টার দিকে উপজেলার ধুবরিয়া ইউনিয়নের বাদে কাকনা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। হতাহতের ঘটনাটি নিশ্চিত করেন নাগরপুর থানার ওসি মো. জহুরুল ইসলাম। পারিবারিক কলহের কারনে হত্যাকান্ড ঘটতে পারে বলে পুলিশের ধারনা।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রায় ৬ বছর আগে ধুবড়িয়া গ্রামের দহর পাচুরিয়া গ্রামের হযরতের সাথে পার্শ্ববর্তী বাদে কাকনা গ্রামের নিলুফার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মাঝে চলতে থাকে দাম্পত্য কলহ। এরই জের ধরে নিলুফা ১ সপ্তাহ আগে হযরতকে তালাক দেয়। তালাকের খবর পেয়ে হযরত ক্ষিপ্ত হয়ে ঘটনার দিন রাত ৮ টার দিকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে শশুর বাড়ি যায়। সেখানে স্ত্রী নিলুফাকে দেখা মাত্রই এলোপাথারী ছুরিকাঘাত করলে ঘটনা স্থলেই তার মৃত্যু হয়। তার রক্তাক্ত নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে থাকে। এসময় নিলুফার মা চেনবানু ফিরাতে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে হয়। পরে স্বামী হযরত আলী তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে নিজের পেটে ও গলায় ছুরিকাঘাত করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে স্থানীরা মুমূর্ষু অবস্থায় স্বামী হযরত ও শাশুড়ি চেনবানু কে উদ্বার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মৌসুমী ভৌমিক বলেন, গুরুতর জখম অবস্থায় হযরত আলী ও চেনবানু কে নিয়ে আসা হয়। প্রচুর রক্তক্ষরন হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ওই রাতেই ২জন কে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে হযরতের অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ও অপর আহত শাশুড়ি চেনবানুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানান।
নিহত নিলুফার পিতা ছইনুদ্দিন বলেন, আমি বাজারে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি যাই। বাড়ি গিয়ে দেখি মেঝেতে মেয়ে ও জামাতার রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে।
এ বিষয়ে নাগরপুর থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) জহুরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে যাই। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে হত্যা মামলা রুজু করেন। ঘাতক স্বামী পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।