১৮ অগাস্ট, ২০২৫
জুয়েল রানা,
ছবি: গলায় কাঁটা
আমরা বাঙালীরা মাছে ভাতে বাঙালী হলেও এমন বাঙালি বোধহয় খুঁজে পাওয়া মুশকিল, যাদের খেতে বসে গলায় মাছের কাঁটা ফোটেনি। আবার অনেকে এমনও আছেন, যারা মাছের কাঁটা ঠিকমতো বেছে খেতে পারেন না। খেতে বসে অনেক কথা বলেন। কেউ আবার খুব তাড়াহুড়ো করে খান। আর সেই অসাবধানতাতেই মাছের কাঁটা গলায় ফুটে যায়। এরপরই শুরু হয় যত বিপত্তি। গলার মধ্যে শুরু হয় অস্বস্তি, খচখচ করে কাঁটা।
জেনে নিন কিভাবে নিমেষে এই অস্বস্তি কাটাবেনঃ
★ কোকঃ
বাড়িতে কোক জাতীয় পানীয় থাকলে খান। এটি কাঁটা নামানোর সবচেয়ে আধুনিক পদ্ধতি। গলায় মাছের কাঁটা বিঁধলে এক নিঃশ্বাসে যতটা সম্ভব কোক খেয়ে নিন। কাঁটা নরম হয়ে নেমে যাবে।
★ অলিভ অয়েলঃ
তেল একটি পিছল পদার্থ। আর অলিভ অয়েল কাঁচা খেলেও ক্ষতি নেই। তাই বাড়িতে যদি অলিভ অয়েল থাকে, খেয়ে নিন ১ চামচ। কাঁটা পিছলে গলা থেকে নেমে যাবে।
★ পাতি লেবুঃ
মাছের কাঁটা নিমেষে নরম করে তুলতে পারে পাতি লেবু। তাই গলায় কাঁটা ফুটলে আগে একটা লেবু কাটুন। লবণ মাখিয়ে রস খেয়ে নিন। কাঁটা নরম হয়ে গলা দিয়ে নেমে যাবে।
★ সাদা ভাতঃ
সাদা শুকনো ভাতের ছোট ছোট বল বানিয়ে চটপট পানি দিয়ে গিলে ফেলতে হবে। মনে রাখবেন, শুধু সাদা ভাত খেলে কিন্তু গলায় আটকে থাকা জেদি কাঁটা নামানো সম্ভব নয়।
★ ভিনিগারঃ
গলায় ফুটে থাকা মাছের কাঁটা নামাতে ভিনিগার দারুণ কাজ দেয়। পানির সঙ্গে সামান্য ভিনিগার মিশিয়ে খেলে আটকে থাকা কাঁটা সহজে নেমে যায়। অনেকটা পাতি লেবুর মতো কাজ করে।
★ হোমিওপ্যাথি ঔষধঃ
বাড়িতে এক শিশি সাইলেশিয়া রাখুন। এই হোমিওপ্যাথি বড়ি গলায় ফুটে থাকা মাছের কাঁটা, বিশেষ করে কই মাছের খতরনাক কাঁটা, গলিয়ে যন্ত্রণামুক্ত করতে সাহায্য করতে পারে।
★ কলাঃ
কলা পিচ্ছিল। তাই গলায় মাছের কাঁটা বিঁধলে আগেই একটি কলা খেয়ে নিন। কখন গলা থেকে কাঁটা নেমে যাবে টেরও পাবেন না।
★ পানিঃ
উপরে উল্লেখিত কোনো উপাদানই যদি হাতের কাছে না থাকে, তাহলে অনেক পরিমাণ পানি খেয়ে গলা থেকে কাঁটা নামাতে হবে। ভালো হয় যদি হালকা গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে খান। এতে কাঁটা নরম হয়ে দ্রুত গলা থেকে নেমে যাবে।
পরিশেষে: সমস্যা আশঙ্কাজনক হলে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।