২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আঃ হালিম সরদার,
ছবি: ধর্ষণকারীদের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার অগ্নিসংযোগ
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি ও লুটপাটের সন্তানকে গাছে বেধে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এঘটনায় গত চার দিনে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বেশ কয়েকটি বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন এলাকার সর্বস্তরের জনগনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দরা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে গফরগাঁও-নান্দাইল মহাসড়কের কালীবাড়িচর বাজার এলাকায় মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা । এতে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ অংশ নেন। প্রায় এক ঘণ্টা সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রথমে দুই সহোদর আরিফ আকন্দ এবং শরীফ আকন্দসহ মামলার প্রধান অভিযুক্তদের বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বলে জানা গেছে।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সমাজসেবক আব্দুল হাই। বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সায়েম, চরআলগী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান মাস্টার, ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম ফরাজি সুমন ও উপজেলা খেলাফত মজলিসের সাধারন সম্পাদক ইলিয়াস আহমেদ ফরাজী, যুব খেলাফত মজলিসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফসহ স্থানীয়রা। উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা হাফিজ আল আসাদ।
বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বিএনপি নেতা নজরুল ইসলামসহ আরো অনেকেই।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে ধর্ষণের পর ৪ দিন পার হলেও মামলার প্রধান দুই আসামি প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন। তাদের দাবি, একটি প্রভাবশালী মহল অভিযুক্তদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ লোকজন মিছিল নিয়ে চরমছলন্দ কালীবাড়িচর গ্রামের দিকে যান। সেখানে মামলার প্রধান আসামি তাহের আকন্দের ছেলে শরিফ ও আরিফ মিয়ার বসতবাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে একটি টিনের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়।
স্থানীয়রা জানান, এর আগে রোববার ও সোমবার দুই দফা সালিশ বৈঠকে অভিযুক্তদের বিচারের দাবি জানানো হয়েছিল। এবং কোনো সমাধান না হওয়ায় মঙ্গলবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনের খবর শোনেই অভিযুক্ত পরিবারের যোগসাজসে মঙ্গলবার সকাল হওয়ার আগেই বাড়ি ভাঙ্গার নাটক সাজিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় ভিডিও প্রচার করেছে তারা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার চরমছলন্দ কালীবাড়িচর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী তার স্কুলপড়ুয়া সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে ছিলেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, শরিফ, আরিফ, রাজিব, ফাহিম ও এনামুল পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই বাড়িতে যান। তারা কৌশলে শিশুটিকে পানি আনতে ঘরের বাইরে পাঠিয়ে দেন এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে বেঁধে ফেলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, পরে অভিযুক্তরা ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে জিম্মি করে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এ সময় অভিযুক্তদের একজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এজাহারভুক্ত আসামি রাজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।