০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
হোম স্বাস্থ্য সারাদেশ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি ও বাণিজ্য খেলাধুলা বিনোদন আন্তর্জাতিক ধর্ম ও জীবন লাইফ স্টাইল শিক্ষা প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান পরিবেশ চাকরি বা ক্যারিয়ার মতামত আইন-আদালত কৃষি ও প্রযুক্তি বিশেষ সংবাদ অপরাধ সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিশ্বকাপ ফুটবল
অপরাধ

ভোলাহাটে সোনা বন্ধক রেখে ভিডব্লিউবি কার্ডের টাকা আত্মসাৎ

১৪ অগাস্ট, ২০২৫

মোঃ শরিফুল ইসলাম (শরীফ),
ভোলাহাট উপজেলা (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি

ছবি: ছবিক্যাপশনঃ ভোলাহাটে ভিডাব্লিউবি (শিশু মাতা)'র কার্ড পেতে কানের সোনা বন্ধক রেখে (সুদের উপর) সাড়ে ৫ হাজার দিয়েও কার্ড পেলো না জুলেখার কান্না জড়িতকণ্ঠের ছবি। পাশে-স্বামী রিক্সা চালক আব্দুস সামাদ ও সংশ্লিষ্ট ইউপি মেম্বার আব্দুর রাকিব।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে গরীব-অসহায় রিক্সা চালকের বউ জুলেখা ভিডাব্লিউবি'র (শিশু মাতা) কার্ডের জন্য কানের সোনা বন্ধক রেখে (সুদের উপর) মেম্বারকে টাকা দিয়েও কার্ড  না পেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে যেনো দেখার কেউ নেই! অবশেষে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করলো জুলেখা!

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার গোহালবাড়ী ইউনিয়নের খালেআলমপুর গ্রামের গরীব-অসহায় রিক্সাচালক আব্দুস সামাদের বউ জুলেখা গরীবিহালের সংসারে স্বামীর সামান্য আয়ের টানাপোড়েনের মধ্যে জোড়াতালি দিয়ে অন্যের সাহায্য-সহানুভূতি নিয়ে তার সংসার চলে।

জুলেখা বেগম বলেন, পাড়া-পড়শীর মুখে শুনে ভিডাব্লিউভি'র ২ বাৎসরিক কার্ডের তার ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুর রাকিবের স্বরণাপন্ন হলে সাড়ে ৫ হাজার টাকা দাবী করে। গরীবের সংসারে টাকাপয়সা জোগাড় না থাকায় আমার কানের সোনা বন্ধক রেখে মেম্বারকে টাকা প্রদান করি।

জুলেখা আরো বলেন, ভিডাব্লিউবি (শিশু মাতা) কার্ড সরকারীভাবে বিতরণ শেষ হলেও আমাকে ডেকে মেম্বার আব্দুর রাকিব বলেন, আরো টাকা লাগবে! তা-না হলে তোমার কার্ড হবে না বলে আমাকে পাঠিয়ে দেন। আমি কার্ড না পেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। মেম্বার আমাকে কার্ড না দিলে টাকা ফেরৎ চাইলে আমার সাড়ে ৫ হাজার টাকাও দেয়নি। উপায়ন্তর না পেয়ে গত ১২ আগষ্ট ২০২৫ তারিখে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।

জুলেখা বেগম এ প্রতিবেদককে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, গরীবের সংসার হামার, নুন আনতে পান্তা ফুড়ায় হামাঘেঁরে। হামি আব্দুর রাকিব মেম্বারের ন্যায্য বিচার চাহি! আপনারা দশভাই হামার গরীব-অসহায় পরিবারের জন্য ভাল কিছু করলে আল্লাহ্ তোমাঘেঁরে ভাল করবে ভাই বলেই জুলেখা কেঁদে ফেললেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

ঘটনার বিষয়ে গোহালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইয়াসিন আলী শাহ্ বলেন, বিষয়টি আমার সচিবের কাছে শুনেছি। তবে আমার কাছে কোন অভিযোগ দেয়নি। তবে একজন গরীব-অসহায় রিক্সা চালকের বউয়ের কথা শুনে চেয়ারম্যান দুঃখ প্রকাশ করে আরো বলেন, এ ধরণের মেয়ের কার্ডটা করা প্রয়োজন ছিলো বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে মেম্বার আব্দুর রাকিবের মোবাইল নম্বর ০১৭০৫৯০২৮২৬ যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত পরশু ইউএনও স্যারের কথা বলে এসেছি। যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তারা মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা করেছে ফাঁসানোর জন্য বলে তিনি জানান।

Related Article