২৬ মার্চ ২০২৬
হোম স্বাস্থ্য সারাদেশ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি ও বাণিজ্য খেলাধুলা বিনোদন আন্তর্জাতিক ধর্ম ও জীবন লাইফ স্টাইল শিক্ষা প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান পরিবেশ চাকরি বা ক্যারিয়ার মতামত আইন-আদালত কৃষি ও প্রযুক্তি বিশেষ সংবাদ অপরাধ সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিশ্বকাপ ফুটবল
স্বাস্থ্য / লাইফ স্টাইল

শরীরে অতিরিক্ত ঘাম ভিটামিনের অভাব নাকি অন্য কোনো কারণ

১৮ অগাস্ট, ২০২৫

জুয়েল রানা,
দেলদুয়ার উপজেলা (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

ছবি: ঘামে ভেজা শরীর

শরীর থেকে ঘাম ঝরা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। গরম আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম বা মানসিক চাপের কারণে ঘাম ঝরে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং টক্সিন বের হয়ে যায়। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত ঘাম ঝরতে থাকলে তা হয়ে ওঠে অস্বাভাবিক এবং অস্বস্তিকর। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলা হয় হাইপারহাইড্রোসিস (Hyperhidrosis)।

ভিটামিন ঘাটতির সঙ্গে সম্পর্ক
অতিরিক্ত ঘামের জন্য সরাসরি এককভাবে কোনো ভিটামিন দায়ী না হলেও কিছু ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি শরীরের হরমোন ও স্নায়ুর কার্যকারিতাকে ব্যাহত করে, যার ফলে অতিরিক্ত ঘাম দেখা দিতে পারে।

ভিটামিন D এর অভাব
শরীরের হরমোন ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। ঘাটতির কারণে হাত–পায়ের তালু ও মাথায় অস্বাভাবিক ঘাম হতে পারে।

ভিটামিন B কমপ্লেক্স

(বিশেষত B1 ও B12) থায়ামিন (B1) ঘাটতিতে স্নায়বিক অস্বস্তি বাড়ে এবং অতিরিক্ত ঘাম দেখা দেয়।
ভিটামিন B12 এর অভাবে স্নায়ু দুর্বল হয়ে যায়, যার ফলে অস্বাভাবিক ঘাম হতে পারে।

ম্যাগনেসিয়াম ঘাটতি
এটি ভিটামিন নয়, তবে স্নায়ু ও পেশীর স্বাভাবিক কাজের জন্য অপরিহার্য। ঘাটতিতে অতিরিক্ত ঘাম ঝরতে পারে।


অন্য কারণও থাকতে পারে

শুধু ভিটামিনের অভাব নয়, অতিরিক্ত ঘামের পেছনে আরও কিছু স্বাস্থ্যগত কারণ থাকতে পারে—

★থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা

★ডায়াবেটিস

★মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

★স্নায়বিক সমস্যা

★কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া


করণীয়

*নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ করা।

*মাছ, ডিম, দুধ, শাকসবজি ও বাদাম খাদ্যতালিকায় রাখা।

*রক্ত পরীক্ষা করে ভিটামিন D, B12, ক্যালসিয়াম ও থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা করা।

*চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা।

*মানসিক চাপ কমাতে ব্যায়াম, ধ্যান ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা।


উপসংহার

অতিরিক্ত ঘাম সবসময় ভিটামিন ঘাটতির কারণে হয় না। তবে ভিটামিন D, B কমপ্লেক্স এবং ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি এ সমস্যাকে বাড়াতে পারে। তাই অস্বাভাবিক ঘাম দীর্ঘস্থায়ী হলে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

Related Article