১২ মে, ২০২৬
মোঃ মাহবুবুল ইসলাম,
ছবি: পরীক্ষার ফিসের নামে চাঁদাবাজি করা শিক্ষকগণ।
রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলায় সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এক অভিনব কায়দায় ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক করে যাচ্ছেন চাঁদাবাজি। সরকারি আদেশ না থাকলেও পরীক্ষার ফিসের নামে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাথে তথাকথিত দুই অনৈতিক প্রধান শিক্ষক করে যাচ্ছেন চাঁদাবাজি ও প্রতারণা। বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় বংশীয় প্রভাব থাকায় অভিভাবকগণ ভয়ে চুপ।
রাজশাহীর পুঠিয়ায় সরকারী সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুঠিয়া উপজেলার পালোপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও কাঁঠাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র- ছাত্রীদের নিকট থেকে অবৈধভাবে প্রথম সাময়িক মূল্যায়ন পরীক্ষার ফি গ্রহন করেছেন দুই প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকা।
পালোপাড়া ও কাঁঠালবাড়িয়া দুই স্কুল সুত্রে জানা যায়, প্রাক প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ৪০ টাকা করে ও তৃতীয় শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ৬০ টাকা হারে পরীক্ষার ফি গ্রহণ করেছেন উভয় বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ।
গত তিন দিন উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, পুঠিয়া উপজেলায় মোট ৯০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে শুধুমাত্র কাঁঠালবাড়িয়া ও পালোপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা হারে প্রধান শিক্ষকের একক ও স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তে টাকা উত্তোলন করেন শিক্ষকগণ।
সরেজমিনে তদন্তে গেলে দুই স্কুলের একাধিক শিক্ষার্থীরা জানান, “পরীক্ষার আগেই আমাদের থেকে পরীক্ষার ফি গ্রহণ করেন আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ। ফি দিতে দেরি হলে আমাদের অনেক রকমের কথা বলেন প্রধান শিক্ষক। আমরা সবাই পরীক্ষার ফি দিয়েই পরীক্ষাতে অংশগ্রহণ করেছি।“
দুই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকরা জানান, “প্রধান শিক্ষক আবু বাক্কারের কথায় পালোপাড়া ও কাঁঠালবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ফি গ্রহণ করা হয়েছে।“
এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত করলে দেখা যায়, পালোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বাক্কারের সহধর্মিণী হচ্ছেন কাঁঠালবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা খাতুন।
পালোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চাঁদাবাজির মাস্টারমাইন্ড আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “হ্যাঁ আমরা পরীক্ষার ফি গ্রহণ করেছি। আমাদের ফান্ডে টাকা সংকট থাকার কারণে বিদ্যালয়ের প্রতিটা শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ৪০ থেকে ৬০ টাকা হারে চাঁদা উঠানো হয়েছে। সরকারের নির্দেশনাকে অমান্য করে টাকা উত্তোলন করা সঠিক কিনা, এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরোও বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিকট টাকা নিবো নাতো কি করবো আমার টাকা দিয়ে কি ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার খরচ চালাবো?” তিনি আরও বলেন, “সরকার ১৫০০০৳ টাকার স্লিপ দিবে পরীক্ষার পরে, তাহলে এখন এতো টাকা কে দিবে? এছাড়াও স্লিপে যে টাকা দেওয়া হয় তা দিয়ে পরীক্ষার খরচ মিটে না।“
এদিকে কাঁঠালবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মাহাবুবা খাতুন জানান ঠিক একই সমস্যার কথা। এছাড়াও এই শিক্ষিকাকে পরীক্ষার ফিসের পরিমাণ কত টাকা জিজ্ঞেস করলে তিনি আমতা আমতা করেন এবং ফিসের পরিমাণ সঠিকভাবে বলতে পারেন না। তিনি একেক সময় একেক পরিমাণ টাকার কথা বলেন। এক পর্যায়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হলো যে “ফিসের পরিমাণ কে নির্ধারণ করেছে?” জবাবে তিনি এদিক ওদিক তাকায় এবং তার পাশে থাকা অন্যান্য সহকারী শিক্ষকদের নিকট হইতে টাকার পরিমাণটা জানতে চান অর্থাৎ তিনি ফিসের পরিমাণটাও সঠিকভাবে জানেন না। তাতেই আরও জোড়ালোভাবে প্রমাণ হয়ে যায় যে, মাহবুবা খাতুন তিনি কাঁঠালবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হয়েও তিনি তার স্বামী পালোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চাঁদাবাজির মাস্টারমাইন্ড আবু বাক্কারের নির্দেশে ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট হইতে পরীক্ষার ফিসের নামে চাঁদাবাজি করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, পুঠিয়া উপজেলার দুইটি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিকট হইতে পরিক্ষার ফি গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা এই বিষয়ে তদন্ত করে দুই স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।“
পুঠিয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের থেকে পরীক্ষার ফি গ্রহণের কোন সুযোগ নেই। যদি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।“