১৬ মার্চ, ২০২৬
রইচ উদ্দীন আহম্মেদ,
ছবি: কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতি, এলাকা পরিদর্শনে ইউএনও এবং কৃষি অফিসার
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়ে বসতবাড়ি ও বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বহু কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে কলাবাগান, পেঁপেবাগান, ভুট্টা ও হালি পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের খেত নষ্ট হয়ে গেছে।
রোববার (গতকাল) রাত প্রায় ১০টার দিকে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের সঙ্গে ছিল শিলাবৃষ্টি।
প্রায় ১৫ মিনিট স্থায়ী এই ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনেক বসতবাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে যায়। এছাড়া আম, কাঁঠাল, ইউক্যালিপটাস ও মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ভেঙে পড়ে। শিলাবৃষ্টির কারণে হালি পেঁয়াজের খেতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে কয়েকটি গ্রাম পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেন।
উপজেলার কলাচাষি গোলাম রাব্বানী জানান, তার ১০ কাঠা জমির কলাবাগানের প্রায় প্রতিটি গাছে কাঁদি ধরেছিল। ভালো দামে কলা বিক্রির আশা করলেও ঝড়ে বাগানের অধিকাংশ গাছ ভেঙে পড়েছে। এতে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
নাড়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক জামিনুর রহমান বলেন, তিনি এক বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছিলেন। গাছে কাঁদি আসতে শুরু করলেও ঝড়ে প্রায় সব গাছ ভেঙে যাওয়ায় ওই জমি থেকে ভুট্টা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন বলেন, ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলাবাগান ও ভুট্টার খেত। পাশাপাশি হালি পেঁয়াজের খেতেও ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী বলেন, আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে বসতবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে উপজেলা কৃষি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা কাজ করছেন। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
Good news
Good