০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম স্বাস্থ্য সারাদেশ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি ও বাণিজ্য খেলাধুলা বিনোদন আন্তর্জাতিক ধর্ম ও জীবন লাইফ স্টাইল শিক্ষা প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান পরিবেশ চাকরি বা ক্যারিয়ার মতামত আইন-আদালত কৃষি ও প্রযুক্তি বিশেষ সংবাদ অপরাধ সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিশ্বকাপ ফুটবল
সারাদেশ / আইন-আদালত / অপরাধ

মামলা-আপত্তি সত্ত্বেও নামজারি করায় চন্দনাইশ এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ

০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মোঃ আয়ুব মিয়া,
চন্দনাইশ উপজেলা ( চট্টগ্রাম ) প্রতিনিধি

ছবি: সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে বক্তব্য রাখছেন মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ

আদালতে মামলা বিচারাধীন এবং লিখিত আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বিরোধপূর্ণ জমি নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝন্টু বিকাশ চাকমার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নামজারি বাতিলসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) চন্দনাইশে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ এসব অভিযোগ করেন। 

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, চন্দনাইশ উপজেলার পশ্চিম এলাহাবাদ মৌজার ১০৪০ খতিয়ানের ৩১৮ দাগের পৈতৃক জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ জমি নিয়ে চন্দনাইশ সিভিল জজ আদালতে অপর মামলা নং-৩৪/২৫ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), চট্টগ্রামের কাছে নামজারি জমাভাগ আপিল নং-১৫৪/২০২৬ বিচারাধীন রয়েছে। 

সলিমুল্লাহর দাবি, বিচারাধীন জমিটি যাতে অন্য কারও নামে নামজারি করা না হয়, সে বিষয়ে গত ২ আগস্ট প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ চন্দনাইশ সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত আপত্তি দেওয়া হয়। তার কাছে ওই আবেদনের রিসিভ কপিও রয়েছে বলে জানান তিনি। 

তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের নামজারির বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিস বা উপজেলা ভূমি অফিসে কোনো বৈধ আবেদন কিংবা তহশিল অফিসের প্রতিবেদন ছিল না। এরপরও গত ৩০ আগস্ট ‘২০২৬-১০০০৯৩’ নম্বর নামজারি খতিয়ান মঞ্জুর করা হয়েছে বলে তিনি জানান। 

সলিমুল্লাহ বলেন, “২ আগস্টের আবেদনে দুটি মামলার বিষয়ই স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। কোনো ধরনের আপস-মীমাংসা বা কথাবার্তাও হয়নি। অথচ এর মধ্যেই নামজারি হয়ে গেছে। তহশিল অফিসের বালামেও ৩০ আগস্ট পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো রেকর্ড ছিল না।” বিরোধপূর্ণ জমির পরিমাণ প্রায় দেড় গণ্ডা বা ৩ শতক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে জমিটি তাদের দখলে রয়েছে। 

প্রতিপক্ষ ১৯৯৫ সালে একটি দলিল রেজিস্ট্রি করলেও এতদিন অবৈধ পন্থা অবলম্বনের সুযোগ না পাওয়ায় নামজারি করেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। 

এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রসঙ্গে সলিমুল্লাহ বলেন, “আমি কখনো নিয়মবহির্ভূত কিছু করিনি। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া না মেনে কীভাবে নামজারি করা হলো, সেটিই আমাদের প্রশ্ন।” 

তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আদালতে মামলা ও উচ্চ আদালতে রিট করার মাধ্যমে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। 

সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবার নামজারি খতিয়ানটি বাতিল, এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং বিচারাধীন বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানায়। 

এ বিষয়ে চন্দনাইশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝন্টু বিকাশ চাকমার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Related Article