৩১ অক্টোবর, ২০২৫
মোঃ মনির হোসেন বকাউল,
ছবি: মাদ্রাসা শিক্ষক এইচএম আল-আমিন আহমেদ ও পাশে তার ফেইসবুক স্ট্যাটাস!
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার গঙ্গাজল মাজারে বাউল গান বন্ধের খবর ঘিরে স্থানীয়ভাবে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। ধর্মীয় পরিবেশ রক্ষার দাবি ও সংস্কৃতিচর্চা— দুই মতের মানুষের মন্তব্যে সামাজিক মাধ্যম এখন সরব।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) স্থানীয় নাসিরউদ্দিন সিপাহসালা আলেয়া মাদ্রাসার শিক্ষক এইচ. এম. আলামিন আহমেদ তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন—
“আলহামদুলিল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাই এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন আমাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য।”
এই পোস্টের পর অনেকেই ইউএনওর প্রশংসা করলেও, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান ভিন্ন।
যোগাযোগ করা হলে মাধবপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম বলেন,
“গান বন্ধে একটি আবেদন এসেছিল।
তবে এটি বন্ধে কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়নি। তবে জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না।”
অন্যদিকে, স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ জানান,
“সুন্দর পরিবেশে পুরুষ বাউল শিল্পীরা যদি গান পরিবেশন করেন, তাতে কোনো দোষ দেখি না। আমরা সবাই মিলেমিশে বাঁচার পক্ষপাতী।”
এ প্রসঙ্গে গঙ্গাজল ওরফে নাসিম শাহ আউলিয়ার মাজারের খাদেম মো:শামসুল ইসলাম বলেন,
“একটি চক্রান্তকারী মহল মাজার ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ধর্ম ও সংস্কৃতিকে মুখোমুখি করা ঠিক নয়। আমরা সবসময় আধ্যাত্মিকতা ও মানবতার প্রচারে কাজ করছি।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি স্থানীয় ফোকাস নিউজ–এর এক প্রতিবেদনে গঙ্গাজল মাজারে বাউল গান বন্ধের খবর প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। কেউ ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সংস্কৃতি দমন হিসেবে দেখছেন এই ঘটনাকে।
সবমিলিয়ে, মাধবপুরে এখন গঙ্গাজল মাজারের বাউল গান ঘিরে চলছে ধর্ম, সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত— এই তিনের জটিল বিতর্ক।
Good news
Good