০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
হোম স্বাস্থ্য সারাদেশ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি ও বাণিজ্য খেলাধুলা বিনোদন আন্তর্জাতিক ধর্ম ও জীবন লাইফ স্টাইল শিক্ষা প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান পরিবেশ চাকরি বা ক্যারিয়ার মতামত আইন-আদালত কৃষি ও প্রযুক্তি বিশেষ সংবাদ অপরাধ সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিশ্বকাপ ফুটবল
সারাদেশ

মাধবপুরে জগন্নাথ মন্দিরের অর্থ আত্মসাৎ: সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ অভিযুক্ত ৫ জন

১২ জানুয়ারী, ২০২৬

ছবি: মন্দির কমিটির সভাপতি হরিশচন্দ্র সেন, ক্যাশিয়ার সুকুমার সরকার ও মুক্তিপদ রায়।

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গিলাতলীর জগন্নাথ মন্দিরে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মন্দির পরিচালনা কমিটির ৫ সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন—মন্দির কমিটির সভাপতি হরিশচন্দ্র দেব, সাধারণ সম্পাদক পংকজ পাল, ক্যাশিয়ার সুকুমার সরকার, সদস্য মুক্তিপদ রায় ও মনজ পাল।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, মন্দিরের দিঘি ইজারা থেকে প্রাপ্ত প্রায় ১৫ লাখ টাকা, দিঘির কোটি টাকা মূল্যের সিরামিকসের মাটি বিক্রির অর্থ, প্রায় ১০ একর জমির ইজারা বাবদ আয়, আরও ২ একর বেদখল জমির আয় এবং ভক্তদের দান-অনুদানের বড় একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কোনো বৈধ সিদ্ধান্ত ছাড়াই খননের জন্য ২২ লাখ টাকা মুক্তিপদ রায়কে দেওয়া হয়। পরে তিনি ওই দিঘি থেকে কোটি টাকা মূল্যের সিরামিকসের মাটি বিক্রি করেন। এছাড়া ইউএনও কার্যালয়ে চাকরির সুবাদে ক্যাশিয়ার সুকুমার সরকার প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অন্তত এক কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মন্দিরের অর্থ আত্মসাৎ করেই মুক্তিপদ রায় মাধবপুর পৌরসভা এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টার ও ভবন নির্মাণ করেছেন এবং সভাপতি হরিশচন্দ্র সেন একটি হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন। তথ্য অধিকার আইনে আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে কমিটির পক্ষ থেকে তথ্য না দিয়ে উল্টো হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে মন্দিরের পুরোহিত ও যোগীগণ চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। মন্দিরের পুরোহিত শিমুল চক্রবর্তী বলেন, “আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।”

হিউম্যান রাইট কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিস (এইচআরসিবিএম)-এর সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক রাকেশ রায় বলেন, “ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিচার নিশ্চিত করা উচিত।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সভাপতি হরিশচন্দ্র সেন ও সাধারণ সম্পাদক পংকজ পালের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে ক্যাশিয়ার সুকুমার সরকার বলেন, “কাগজে আমার স্বাক্ষর থাকলেও সিদ্ধান্তগুলো অন্যরা নিয়েছেন। কাগজে-কলমে আমার কোনো দায় নেই। বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাধে আমার কোন দায় নেই।”

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম বলেন, “মন্দিরটি পরিচালনা কমিটির অধীনে। তারপরও অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

 

Related Article
comment
মোঃ মনির হোসেন বকাউল
29-Sep-23 | 10:09

Good news

মোঃ মনির হোসেন বকাউল
10-Dec-23 | 04:12

Good