২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
আঃ হালিম সরদার,
ছবি: মাদরাসা অধিদপ্তরের নানা অনিয়ম সুবিধাভোগী সাবেক যুবলীগ নেতা মুখলেছ
গত বছরের ৫ আগষ্টে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী সুবিধাভোগী প্রায় সকল দফতরে বড় একটি অংশ পলাতক কিংবা নিরব ভূমিকায় থাকার প্রভাব পরেছে মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এসব জাগায় আওয়ামীলীগ আমলে দলীয় পরিচয় এবং পদ পদবীর কারনে নিজেদের সুবিধা নেওয়া এবং অন্যের ক্ষতিসাধনে ব্যস্তছিল কিছু সুবিধা ভোগী শিক্ষক এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। ফলে পটপরিবর্তনের সাথে সাথেই তাদের কেউ পালিয়ে এবং কেউ হালকা পাতলা উপস্থিতির মধ্যে দিয়ে ঢিলঢালা কার্যক্রমেই পরিচালিত হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাদের অনেকেই প্রতিষ্ঠানে না এসেও বেতন ভাতা তুলছেন নিয়মিত। এর ফলে বর্তমান সময়ে নানামুখী অসুবিধায় পরেছে দেশের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অনুসন্ধানে এমন কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার শিবগঞ্জ বাজারের নিকটবর্তী যশরা ইউনিয়নের যশরা আয়েশা হাসান দাখিল মাদরাসায় নামক একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
জানা গেছে, মাদরাসাটির সুপার মোখলেছুর রহমান নামে এক ব্যক্তি গত দেড় বছরে প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাতে গুনা কয়েকদিন। সবশেষ গত ৬ মাস যাবত পলাতক সুপার মোখলেছুর রহমান অজ্ঞাত স্থান থেকে উপজেলা অফিসের কিছু অসাধু ব্যক্তিদের ম্যনেজ করে বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন নিয়মিত। এদিকে গত কয়েকমাস যাবত এলাকাবাসীর নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে খোঁজ নিতে গিয়ে বেশ কিছু তথ্য মিলেছে মদরাসায় সুপার মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে। তিনি মাদরাসার আশপাশে অপরিচিত কোন লোক দেখলে এবং শিক্ষা অফিসের উর্ধতন কোন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমের কোন লোক প্রতিষ্ঠানে আসার খোজ পেলেই ছিটকে পরেন। মাদরাসা বা শিক্ষা অফিস, শিক্ষা অধিদপ্তর কিংবা কোন দফতরে গত কয়েকবছরে তদন্ত কমিটির কোন তদন্তের দিনই সুপার উপস্থিত না থাকার প্রমান পাওয়া গেছে । গত বছরের ২৬ নভেম্বর মাদরাসায় অনুষ্ঠিত একটি তদন্তে এবং ২৯ ডিসেম্বর মাদরাসা অধিদপ্তর অনুষ্ঠিত তদন্তে হাজির ছিলেন না তিনি। সুযোগ বুঝে পরে সব কিছু ম্যনেজ করেন। যদিও আগে থেকে চিঠি দেওয়া হয়।
গত ফ্যসিস্ট সরকারের আমলে নিজেকে যুবলীগ নেতা পরিচয়ে শিক্ষক সমাজে প্রভাব খাটানো এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে দাপট দেখানোর কারনে ভিন্ন মতাবলম্বীদের জিম্মি করে হয়রানি কারনে এবং সুবিধা বঞ্চিতদের তোপের মুখে পরার ভয়েই আত্মগোপন থেকেও নানা সুবিধা গ্রহন করছেন ময়মনসিংহ জেলার বিশেষ জজ আদালতের অন্যতম চার্জশিট ভুক্ত এক নাম্বার আসামী মাদরাসার সুপার মোখলেছুর রহমান । যার চলামন মামলা নং ০২/২০২১।
মামলা চলমান থাকা এবং লুকিয়ে থেকেও বেতন ভাতা সহ নানা সুবিধা গ্রহন এবং নিয়মিত ষড়যন্ত্র মূলক কার্যক্রম পরিচালনার দায় কোনভাবেই এড়াতে পারে না উপজেলা প্রশাসন এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। তার এসব কাজে মাদরাসা অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং নিজ মাদরাসার শিক্ষক বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য সহকারী মৌলভী আতাউর রহমান এবং অফিস সহকারী সাইদুর রহমান জড়িত রয়েছে। তারা দুজনই সুপারের একান্ত সহকারী এবং গফরগাঁও উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য।
এছাড়াও মাদরাসায় না এসেও কিভাবে এত সুবিধা পান সেব্যপারে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরী হয়েছে। তিনি নানা অজুহাতে তার স্বীয় প্রতিষ্ঠান যশরা আয়েশা হাসান দাখিল মাদরাসায় নিয়মিত না গেলেও যথা সময়ে মাদরাসা অধিদপ্তর, ব্যাংক এবং সরকারি বিভিন্ন দফতরে হাজির হতে ভুল করেন না কখনই। বিগত কয়েকদিন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে ঘুরে গুঞ্জন শুনা গেছে, শুধুমাত্র সুপারের জালিয়াতি এবং ভুয়া সনদে অযোগ্যদের নিয়োগ ব্যবসা ও জন হয়রানি মামলা মোকদ্দমার করনেই এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার গুনগত মান এবং শিক্ষার্থী উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে। বেশ কয়েক জনকে বিষয়টি নিয়ে জটিলভাবে কানা-ঘুষা করতে শুনা গেছে। সমাজের সবার চোখে সীমাহীন ত্রুটির খবর পাওয়া গেলেও দেখেন না শুধু মাধ্যমিক অফিসার, মাদরাসাা শিক্ষা অধিদপ্তর আর মিনিস্ট্রি অডিটের সদস্যরা।
মাদরাসা সুপারের প্রতিষ্ঠানে না আসা এবং অজ্ঞাত স্থান থেকে স্বাক্ষর করে বেতন ভাতা উত্তোলনে তার বেশ কয়েকজন সহযোগী রয়েছে। এসব বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে তার একান্ত দুই সহযোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। তারা একই মাদরাসার একজন শিক্ষক সহকারী মৌলভী আতাউর রহমান এবং অফিস সহকারী সাইদুর রহমান। তারা দুইজনেই আওয়ামীলীগ সরকারের করা বঙ্গবন্ধু পরিষদের কমিটির সদস্য। তবে মৌলভী আতাউর রহমানের মাধ্যমেই গোপন জায়গা থেকে স্বাক্ষর করে বেতন তোলেন সুপার। অবশ্য উপজেলা প্রশাসন এব্যাপারে একেবারেই খোজ খবর রাখছেন না বলেই ধারনা করা হচ্ছে।
যশরা আয়েশা হাসান দাখিল মাদরাসার সুপার মোখলেছুর রহমানকে আওয়ামীলীগ আমলের জাল সুপার উল্লেখ্য করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন ময়মনসিংহ জেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অবসর প্রাপ্ত সাবেক উপ-পরিচালক এনং ময়মনসিংহ মহানগরীর জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোঃ আব্দুল বাতেন ।
এব্যাপারে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার একজন মানবাধিকার নেতার কাছে উপস্থাপন করা হলে এই অভিযুক্ত সুপারের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা জরুরী বলে বলে মতামত দিয়েছেন সংস্থাটির মহা সচিব অধ্যক্ষ একরাম উল্লাহ। সংশ্লিষ্ট বিষয় দূর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তিনি।