১৫ Jul ২০২৬
হোম স্বাস্থ্য সারাদেশ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি ও বাণিজ্য খেলাধুলা বিনোদন আন্তর্জাতিক ধর্ম ও জীবন লাইফ স্টাইল শিক্ষা প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান পরিবেশ চাকরি বা ক্যারিয়ার মতামত আইন-আদালত কৃষি ও প্রযুক্তি বিশেষ সংবাদ অপরাধ সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিশ্বকাপ ফুটবল
সারাদেশ

ডা. আজিজুল হোসেন নবীনগরের উজ্জ্বল নক্ষত্র- বাংলাদেশের গর্ব

১৪ Jul, ২০২৬

জহিরুল ইসলাম,
নবীনগর উপজেলা ( ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ছবি: অধ্যাপক ডাক্তার আজিজুল হোসেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার মাটি ও মানুষের সন্তান। আজ তিনি শুধু বাংলাদেশের নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও শিশু চিকিৎসায় এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।তিনি অধ্যাপক ডা. মো. আজিজুল হোসেন। নবজাতক, শিশু, কিশোর ও শিশু কিডনী রোগের বিশেষজ্ঞ এই চিকিৎসক নিজ কর্মগুণে সারা নবীনগর তথা বাংলাদেশের গর্বে পরিণত হয়েছেন।অধ্যাপক ডা. আজিজুল হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর গ্রামের কৃতী সন্তান

তিনি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব রফিকুল ইসলামের বড় ছেলে।জিনদপুরের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে তিনি আজ দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছেন।চিকিৎসা বিজ্ঞানে তার ঝুলিতে রয়েছে একের পর এক সম্মানজনক ডিগ্রি এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), ডিসিএইচ, এমডি (শিশু), এমআরসিপিএস (গ্লাসগো), এফআরসিপি (গ্লাসগো), এমএপি (আমেরিকা) ফেলো

বিশেষভাবে তিনি শিশু নেফ্রোলজী অর্থাৎ শিশুদের কিডনী রোগের উপর উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।

বর্তমানে তিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন ফেলো, শিশু নেফ্রোলজী বিভাগন্যাশনাল ইউনিভারসিটি হসপিটাল, সিঙ্গাপুরবিশ্বমানের এই হাসপাতালে তিনি জটিল শিশু কিডনী রোগের চিকিৎসা ও গবেষণায় যুক্ত।অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধানশিশু নেফ্রোলজী বিভাগ এবং শিশু বিভাগকুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুমিল্লা দেশের মাটিতেও তিনি নতুন প্রজন্মের চিকিৎসক তৈরির পাশাপাশি হাজারো অসুস্থ শিশুর সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।জিনদপুর গ্রামের মানুষ অধ্যাপক ডা. আজিজুল হোসেনকে নিয়ে গর্বিত। এলাকার এক শিক্ষক বলেন, "আজিজুল ইসলাম আমাদের এলাকার অনুপ্রেরণা। ওকে দেখে আমাদের ছেলেরাও ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখে।"নবীনগরের সামাজিক সংগঠনগুলোও তার সাফল্যে আনন্দিত। তারা মনে করেন তার মতো মেধাবীরা দেশের মুখ উজ্জ্বল করছে।জিনদপুরের মেঠো পথ থেকে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভারসিটি হসপিটাল পর্যন্ত - অধ্যাপক ডা. মো. আজিজুল হোসেনের এই যাত্রা প্রমাণ করে, মেধা ও পরিশ্রম থাকলে গ্রামের ছেলেও বিশ্ব জয় করতে পারে।তিনি দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা শিশু কিডনী রোগ বিশেষজ্ঞ। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভারসিটি হসপিটাল ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক।দেশী ও বিদেশী জার্নালে ৫০ টি গবেষনা কর্ম প্রকাশিত হযেছে। উনার ওয়েভসাইটেরঠিকানাwww.profazizulpediatrics.comএই সাইটে ভিজিট করলে শিশু চিকিৎসায় তাহারঅর্জন ও অবদান সম্পর্কে জানা যাবে। কুমিল্লায মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চেম্বারে গেলেই যা ঘটে তা অনেকের কাছে বিস্ময়।রোগীর স্বজনরা জানান, কেউ যদি বলে "স্যার, আমরা নবীনগরের মানুষ" তাহলে সাথে সাথে সব নিয়মের বাইরে গিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেন তিনি।কোন ফিস নেই। সকলের আগে সিরিয়াল। এবং আন্তরিকতার সাথে চিকিৎসা দিয়ে বিদায় করেন।

এক রোগীর বাবা বলেন, "স্যারকে বললাম আমরা নবীনগর থেকে আসছি। স্যার নিজে উঠে এসে হাত ধরে বসালেন। কোনো টাকা নিলেন না। অফিসের সিরিয়াল ম্যানকে বললেন, নিজের এলাকার মানুষ আগে।"শুধু ফ্রি চিকিৎসা নয়। অধ্যাপক ডা. আজিজুল হোসেনের কথায় ও আচরণে ফুটে ওঠে মাটির টান।

তিনি প্রায়ই বলেন, "আমি যা কিছু হয়েছি এই মাটির কারণে। জিনদপুরের বাতাস, নবীনগরের মানুষ আমাকে মানুষ করেছে। তাই তাদের ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারব না। আমার সাধ্যমতো সেবা করে যেতে চাই।জিনদপুরসহ নবীনগরের অনেক দরিদ্র পরিবারের শিশুর জটিল কিডনী রোগের চিকিৎসা তিনি বিনামূল্যে করিয়ে দিয়েছেন।এই মানবিকতার জন্য নবীনগরবাসী তাকে "আমাদের ডাক্তার" বলেই ডাকেন।

স্থানীয় এক মুরব্বি বলেন, "বড় ডাক্তার তো অনেকেই হয়। কিন্তু নিজের গ্রামের মানুষকে এভাবে বুকে টেনে নেয় কয়জন? আজিজুল আমাদের গর্ব।"উপাধি আর ডিগ্রির ভিড়ে মানবিকতা হারিয়ে যায়। কিন্তু অধ্যাপক ডা. আজিজুল হোসেন প্রমাণ করেছেন, সফলতার আসল পরিচয় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। নবীনগরের মাটির টান তাকে আজও টেনে রাখে নিজের মানুষের কাছে।

 

Related Article
comment
মোঃ মনির হোসেন বকাউল
29-Sep-23 | 10:09

Good news

মোঃ মনির হোসেন বকাউল
10-Dec-23 | 04:12

Good