১৮ অগাস্ট ২০২৬
হোম স্বাস্থ্য সারাদেশ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি ও বাণিজ্য খেলাধুলা বিনোদন আন্তর্জাতিক ধর্ম ও জীবন লাইফ স্টাইল শিক্ষা প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান পরিবেশ চাকরি বা ক্যারিয়ার মতামত আইন-আদালত কৃষি ও প্রযুক্তি বিশেষ সংবাদ অপরাধ সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিশ্বকাপ ফুটবল
সারাদেশ / রাজনীতি / স্বাস্থ্য

বাস্তবায়ন হবে তো এমপি জসিমের ‘মানবিক ফার্মেসি’!

১৭ অগাস্ট, ২০২৬

মোঃ আয়ুব মিয়া,
চন্দনাইশ উপজেলা ( চট্টগ্রাম ) প্রতিনিধি

ছবি: প্রস্তাবিত মানবিক ফার্মেসীর দৃশ্য

চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদ গত ১৬ জুলাইচন্দনাইশ উপজেলাস্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে যান।সেখানে একসংক্ষিপ্ত আলোচনায় তিনি নিজস্ব অর্থায়নেচন্দনাইশ ওদোহাজারী হাসপাতালে ‘মানবিক ফার্মেসি’ স্থাপন করারঘোষণা দেন।

উক্ত আলোচনায়আরও উপস্থিতছিলেন চন্দনাইশউপজেলা নির্বাহীঅফিসার মো. আবদুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্যও পরিবারপরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা, থানার ভারপ্রাপ্তকর্মকর্তা  এস.এম. দিদারুলইসলাম সিকদারসহঅন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যারসমাধানের আশ্বাসেরপরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য এই ঘোষণাদেন। আলোচনাকালেতিনি উপস্থিতডাক্তারদের নিকট জানতে চান—৫০লক্ষ টাকারওষুধ ৩২লক্ষ টাকায়পাওয়া যাবেএমন কোনোমাধ্যম খুঁজেদেওয়া সম্ভবকি না।

তখন উপস্থিতডাক্তারগণ কমিশন বাদ দিয়ে সরাসরিউৎপাদনকারী কোম্পানির নিকট থেকে ওষুধকেনার পরামর্শদেন। এবিষয়ে ফার্মেসিস্থাপনের জন্যউপযুক্ত কক্ষনির্ধারণ এবংপ্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তৎক্ষণাৎউপজেলা নির্বাহীঅফিসারকে মৌখিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে উপজেলাস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাডা. রশ্মিচাকমা জানান, চন্দনাইশ ওদোহাজারী স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে দৈনিক গড়ে ৫০০ থেকে৮০০/৯০০জন রোগীচিকিৎসা নেন।দুটি হাসপাতালেসব মিলিয়েরোগীর সংখ্যাপ্রায় ১,০০০ থেকে২,০০০জন হলেও বৃষ্টির দিনেতা কিছুটা কমে। 

হাসপাতালেটিকিটের ফি মাত্র ৩টাকা এবংওষুধ সাধারণতসরকারিভাবে বিনামূল্যে দেওয়া হয়। তবেআউটডোরে নির্দিষ্টওষুধের খরচেরবিষয়ে আগামঅনুমান করাসম্ভব নয়।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় সংসদসদস্য একটি "মানবিক ফার্মেসি" গড়ে তোলার উদ্যোগনিয়েছেন, যা ২৪ ঘণ্টা খোলাথাকবে। 

রাতে যখন সাধারণওষুধের দোকানবন্ধ থাকেকিংবা হাসপাতালেপ্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না, তখন রোগীরাযেন সাশ্রয়ীমূল্যে ওষুধকিনতে পারেন—এটিই এইফার্মেসির মূল উদ্দেশ্য। সংসদ সদস্যমহোদয় ইউএনও-কে আগামীমাসের ১তারিখের মধ্যেউদ্বোধনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

তবে ডা. রশ্মিচাকমা স্পষ্টকরেন যে, এখন পর্যন্তকক্ষ বরাদ্দবা ওষুধকেনার কাজশুরু হয়নি।সরকারি নিয়মঅনুযায়ী সিভিলসার্জন এবংস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের লিখিত অনুমতিছাড়া সরকারিজায়গায় কোনোস্থাপনা তৈরিকরা সম্ভবনয়।

স্বচ্ছতাবজায় রাখতেএবং আইনিজটিলতা এড়াতেঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরঅনুমোদন পাওয়ারপরই পরবর্তীসিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—যেমন কীভাবেফার্মেসি পরিচালিতহবে, কারাকাজ করবেএবং ওষুধেরদাম কেমনহবে।

এইবিষয়ে এখনোকোনো দাপ্তরিকচিঠি চালাচালিহয়নি। তাদেরআসন্ন মাসিকসভায় সংসদসদস্যের নির্দেশনাঅনুযায়ী পরবর্তীপদক্ষেপ নির্ধারণকরা হবে।

অপরদিকে, সংসদ সদস্যের ঘোষণারপর স্থানীয়রোগী ওস্বজনদের মধ্যে ‘মানবিক ফার্মেসি’ নিয়ে আশাবাদতৈরি হলেও, সরকারি অনুমোদন, কক্ষ বরাদ্দ, ওষুধ ক্রয়ও পরিচালনাসহবেশ কিছুআনুষ্ঠানিকতা এখনো বাকি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—ঘোষণারপর বাস্তবেকবে চালুহবে জসিমের ‘মানবিক ফার্মেসি’?

Related Article