০৩ এপ্রিল ২০২৬
হোম স্বাস্থ্য সারাদেশ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি ও বাণিজ্য খেলাধুলা বিনোদন আন্তর্জাতিক ধর্ম ও জীবন লাইফ স্টাইল শিক্ষা প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান পরিবেশ চাকরি বা ক্যারিয়ার মতামত আইন-আদালত কৃষি ও প্রযুক্তি বিশেষ সংবাদ অপরাধ সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিশ্বকাপ ফুটবল
জাতীয় / অর্থনীতি ও বাণিজ্য

ভ্যাট হোক ৩%: বিক্রয়স্থলেই আদায়ের দাবি।

০২ এপ্রিল, ২০২৬

মোঃ শাহরিয়ার,
লোহাগাড়া উপজেলা (চট্রগ্রাম) প্রতিনিধি

ছবি: প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান

মিষ্টান্ন পণ্যে বর্তমানে বিদ্যমান ভ্যাট হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সুইটস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। এছাড়া ভ্যাট আদায় শুধুমাত্র বিক্রয়স্থল থেকে করার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। বুধবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনা শেষে তারুণ্য ২৪.কম এর সাথে এক সাক্ষাতে এসব কথা বলেন সংগঠনটির মহাসচিব ননী গোপাল ঘোষ 
ও সহ-সভাপতি আব্দুল মালেক।

 এ সময় মহাসচিব ননী গোপাল ঘোষ জানান,  ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে সরকার মিষ্টান্ন পণ্যের ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করলে ইতিবাচক ফলাফল দেখা যায়।

মিষ্টির দাম কিছুটা কমায় ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে, বিক্রি বৃদ্ধি পায় এবং ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। “এতে প্রমাণিত হয়েছে যে ভ্যাটের হার যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে থাকলে ব্যবসায়ী ও ভোক্তা উভয়েই কর ব্যবস্থায় উৎসাহিত হন এবং সরকারের সামগ্রিক রাজস্ব বৃদ্ধি পায়,” বলেন তিনি। বর্তমানে ভ্যাট হার ১০ শতাংশ নির্ধারিত থাকায় উন্নয়নশীল দেশ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক ক্রেতা ভ্যাট প্রদান থেকে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ননী গোপাল ঘোষ। 

এতে বিক্রি কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং সরকারের প্রত্যাশিত রাজস্বও হ্রাস পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বাংলাদেশ সুইটস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, সিঙ্গাপুরে খাদ্যপণ্যে ভ্যাট প্রায় ৬ শতাংশ এবং ভারতে গড়ে প্রায় ৫ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশে মিষ্টান্ন পণ্যে হার অনেক বেশি। তিনি আরও জানান, মিষ্টান্ন প্রস্তুতিতে প্রধান উপকরণ চিনি ক্রয়ের সময়ই পূর্বে ভ্যাট পরিশোধ করা থাকে এবং তরল দুধ সরাসরি প্রান্তিক কৃষক ও ডেইরি খামারিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। তাই মিষ্টির বিক্রি কমলে দুধের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, ফলে কৃষক ও খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
 

বর্তমান ভ্যাট নীতিতে উৎপাদনস্থল ও বিক্রয়স্থল—উভয় পর্যায়ে ভ্যাট হিসাব সংরক্ষণের বিধান থাকলেও মিষ্টান্ন পচনশীল খাদ্যপণ্য হওয়ায় অধিকাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পক্ষে এই দ্বৈত হিসাব সংরক্ষণ অত্যন্ত জটিল বলে উল্লেখ করেন সংগঠনের এই নেতা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছর থেকে মিষ্টান্ন পণ্যের ভ্যাট হার ৩ শতাংশ নির্ধারণ এবং শুধুমাত্র বিক্রয়স্থল থেকে ভ্যাট আদায়ের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

“ভ্যাট হার যুক্তিসঙ্গতভাবে কমানো হলে অধিক সংখ্যক ব্যবসায়ী স্বেচ্ছায় ভ্যাট ব্যবস্থার আওতায় আসবেন এবং সরকারের মোট রাজস্ব আদায় আরও বৃদ্ধি পাবে,” উল্লেখ করে সংগঠনের সহ-সভাপতি আব্দুল মালেক আরও বলেন সরকার এ বিষয়ে সংগঠনের সহযোগিতা কামনা করলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন।

Related Article