৩১ অক্টোবর, ২০২২
জুয়েল রানা,
ছবি: ভূঞাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় গভীররাতে ফিল্মি কায়দায় বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রশ্ন চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক ছাত্রী।
২৯ অক্টোবর শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে ভূঞাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী এবং উপজেলার বামনহাটা গ্রামের বাসিন্দা।
পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন, সহকারি প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহীম, শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন ও মহিউদ্দিন ওরফে মনিরসহ ওই ছাত্রীর মা বিদ্যালয়ে গিয়ে মেয়েকে নিয়ে যায়।
জানা গেছে, ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ওই শিক্ষার্থী তার বান্ধবী ও দুই বন্ধুর সহায়তায় এসএসসির টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র চুরি করার জন্য শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে ভূঞাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দেয়াল টপকিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। পরে আগের থেকে বানানো তালার চাবি দিয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করে একেক করে কয়েকটি আলমারির তালা ভাঙতে থাকে। এসময় পাশের রুমে থাকা নৈশ প্রহরী ফজলু তালা ভাঙার শব্দ শুনে ভিতরে গিয়ে ছুড়ি হাতে দেখে ওই ছাত্রীকে। এসময় সে নৈশ প্রহরীকে ফাঁসানোর ভয় দেখায়। পরে একপর্যায়ে নৈশ প্রহরী তাকে ছেড়ে দেয়ার আশ্বাসে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাল মাহমুদের বাসায় নিয়ে যায়। পরে সেখানে ওই ছাত্রী ঘটনার বিস্তারিত বলে। পরে মানবিক বিবেচনায় ওই রাতেই প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীর মা এবং ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনকে বিষয়টি জানালে তাঁরা বিদ্যালয়ে এসে ওই ছাত্রীকে নিয়ে যায়।
এদিকে ওই ছাত্রী তার বান্ধবীসহ এ কাজে জড়িত চারজন স্থানীয় অলি রিড এন্ড লার্ন একাডেমীতে কোচিং করতো।
ভূঞাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লাল মাহমুদ বলেন, অন্য বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীর ভাষ্যমতে প্রশ্নপত্র চুরি করে বিক্রির জন্য ছেলেদের পোশাক পড়ে গভীর রাতে বিদ্যালয়ের দেয়াল টপকিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। তবে পূর্বেই ফিল্মি স্টাইলে বিদ্যালয়ের তালা-চাবির ছবি তুলে তালা খোলার জন্য আলাদা চাবি বানিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে সে। পরে কক্ষের ভিতরে কয়েকটির আলমারির তালা নষ্ট করে। পরে নাইট গার্ড শব্দ পেয়ে ভিতরে গিয়ে তাকে ছুরিসহ হাতেনাতে আটক করে। সে আমাদের জানিয়েছে এসএসসির টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্ন চুরি করে বন্ধুদের কাছে বিক্রি করবে। পরে মানবিক কারণে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও তার মাকে জানানো হলে তাঁরা বিদ্যালয়ের এসে মেয়েকে নিয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, এই কাজে জড়িত থাকার দায়ে আমাদের বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে ট্রান্সফার সার্টিফেট (টিসি) দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহীউদ্দিন বলেন, এই বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে প্রশ্ন চুরির ঘটনা জানিনা। জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মোছা. ইশরাত জাহান বলেন, ঘটনাটি জেনেছি। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Good news
Good
wonderful news