২৫ মার্চ ২০২৬
হোম স্বাস্থ্য সারাদেশ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি ও বাণিজ্য খেলাধুলা বিনোদন আন্তর্জাতিক ধর্ম ও জীবন লাইফ স্টাইল শিক্ষা প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান পরিবেশ চাকরি বা ক্যারিয়ার মতামত আইন-আদালত কৃষি ও প্রযুক্তি বিশেষ সংবাদ অপরাধ সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিশ্বকাপ ফুটবল
শিক্ষা

রিসোর্স শিক্ষকদের সংহতি: শিক্ষকদের ন্যায্য তিন দফা দাবির প্রতি সমর্থন

২১ অক্টোবর, ২০২৫

ডা.এম.এ.মান্নান,
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

ছবি: সংহতি প্রকাশ করছেন রিসোর্স শিক্ষকরা

দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ন্যায্য তিন দফা দাবির প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছেন সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ) প্রকল্পে নিযুক্ত রিসোর্স শিক্ষকগণ। সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত শিক্ষক আন্দোলনে রিসোর্স শিক্ষক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যবৃন্দ সরাসরি উপস্থিত থেকে এই সংহতি জানান।

রিসোর্স শিক্ষক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আলম হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. বরকত উল্লাহ, প্রচার সম্পাদক তরিকুর রহমান এবং নির্বাহী সদস্য এস এম মঞ্জুসহ ২০-২৫ জন শিক্ষক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

তারা বলেন, একজন শিক্ষক জাতি গঠনের কারিগর। অথচ সেই শিক্ষক আজ ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত। মাসিক ১২,৭৫০ টাকা বেতন নিয়ে একজন শিক্ষক যদি পরিবার নিয়ে জীবনযাপন করেন, তবে তা দারিদ্র্যেরও নিচে পড়ে। বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এমন বেতন কাঠামো শিক্ষক পেশার মর্যাদাহানি এবং শিক্ষা খাতের প্রতি রাষ্ট্রীয় অবহেলারই প্রতিফলন।

রিসোর্স শিক্ষকরা আন্দোলনকারী শিক্ষকদের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জল ও ডাব সরবরাহ করেন, যা ছিল তাদের এক মানবিক সহায়তা। তারা আরও বলেন, ২০% বাড়িভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং কর্মচারীদের জন্য ৭৫% উৎসব ভাতা, এই তিনটি দাবি কোনো বিলাসিতা নয়, বরং টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয়। যদিও রিসোর্স শিক্ষকরা সরাসরি এই সুবিধাভুক্ত না, তবুও তারা দেশব্যাপী শিক্ষক সমাজের পাশে দাঁড়িয়েছেন নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে।

বক্তারা বলেন, নেপাল, ভুটানসহ অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় দেশের তুলনায় বাংলাদেশের শিক্ষকদের বেতন সর্বনিম্ন। ফলে মেধাবীরা শিক্ষকতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন, মানোন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে এটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

তারা বলেন, ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া লক্ষাধিক শিক্ষক নিজ জেলা থেকে বহু দূরে কর্মরত। কম বেতন, ভ্রমণ খরচ এবং পারিবারিক বিচ্ছিন্নতায় তারা মানসিক ও আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত। শিক্ষক সমাজের প্রতি রাষ্ট্রের দৃষ্টি না দিলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় সংকট দেখা দিতে পারে।

রিসোর্স শিক্ষকরা বর্তমান শিক্ষা উপদেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন পর একজন মার্জিত, ভদ্র, রুচিশীল ও শিক্ষকবান্ধব উপদেষ্টা পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাই তার নেতৃত্বে শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবি আদায়ের সুযোগ রয়েছে। এজন্য দল-মত নির্বিশেষে সকল শিক্ষক নেতৃবৃন্দকে একতাবদ্ধভাবে যৌক্তিক দাবিগুলো উপস্থাপন করার আহ্বান জানান তারা।

বিশ্বব্যাংকের সংজ্ঞা অনুযায়ী, যারা দিনে ২.১৫ ডলারের কম খরচে জীবনযাপন করেন, তারা চরম দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছেন। অথচ বাংলাদেশের একজন সহকারী শিক্ষক যদি পরিবার নিয়ে মাসে ১০৪ ডলার আয়ে দিনাতিপাত করেন, তবে তিনি সেই মানদণ্ডেও নিচে অবস্থান করছেন। এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—এই অবস্থায় ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG 4) অর্জন কীভাবে সম্ভব?

Related Article
comment
ANISUR
12-Mar-25 | 07:03

2466049