১৪ Jul, ২০২৬
ডা.এম.এ.মান্নান,
ছবি: ইত্তিহাদুল উলামা ওয়াল হুফফাজ, নাগরপুর এর নেত্ববৃন্দ
যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার সীমান্তবর্তী সালিমাবাদ ও চরসালিমাবাদ এলাকার নদীভাঙন ও বন্যাকবলিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে নাগরপুরের আলেমসমাজ পরিচালিত সামাজিক ও মানবিক সংগঠন ইত্তিহাদুল উলামা ওয়াল হুফফাজ, নাগরপুর।
গত শনিবার সকালে চরসালিমাবাদ বাজারে আয়োজিত ‘সহায়তা প্রদান কর্মসূচি-২০২৬’-এর আওতায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া একটি জামে মসজিদ পুনঃস্থাপনের জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি মুফতী মো. জহিরুল ইসলাম ফয়েজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি মাওলানা আল হেলাল উদ্দিন, সহ-সভাপতি মুফতী শহিদুল ইসলাম সিরাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসান, আলহাজ মো. মিরাজুল ইসলাম, হুমায়ুন দেওয়ান, মো. আবাবিল, অধ্যক্ষ (অব.) মো. রুহুল আমিন, সাংবাদিক আমজাদ হোসেন রতন, সাংবাদিক ডা. এম. এ. মান্নান, হাফেজ মো. শরিফুল ইসলামসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নদীভাঙন শুধু মানুষের ঘরবাড়িই কেড়ে নেয় না, বরং তাদের জীবিকা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকেও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়। তাই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সমাজের প্রতিটি সক্ষম মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। তারা সরকার, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সমাজের বিত্তবানদের নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আরও আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সহায়তা গ্রহণকারী আব্দুল মতিন বলেন, “নদীভাঙনে আমার বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। এই নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা। আল্লাহ ইত্তিহাদুল উলামা ওয়াল হুফফাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
স্থানীয় মুসল্লি মো. আব্দুস সালাম বলেন, “নদীভাঙনে আমাদের জামে মসজিদটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় নিয়মিত নামাজ আদায়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। ইত্তিহাদুল উলামা ওয়াল হুফফাজ, নাগরপুরের পক্ষ থেকে মসজিদ পুনঃস্থাপনে আর্থিক সহায়তা প্রদান করায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। আমরা মহান আল্লাহর কাছে সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের উত্তম প্রতিদান কামনা করি এবং দ্রুত মসজিদটি পুনর্নির্মাণের আশা করছি।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, মানবিক সংকটে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাদের চলমান কার্যক্রমের অন্যতম অংশ। ভবিষ্যতেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদীভাঙন ও বন্যাসহ যেকোনো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
ধন্যবাদ 🌸💚
Good news