১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
মোঃ শাহরিয়ার,
ছবি: উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ
মহেশখালীর কালারমারছড়া দুর্গম পাহাড়ে ১০ টি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলাবারুদ উদ্ধার। সন্ত্রাসীদের ৫টি আস্তানা গুড়িয়ে দিয়েছে র্যাব।
দেশের এক মাত্র পাহাড়িদ্বীপ কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমার ছড়া ইউনিয়নের ফকিরজুম পাড়া, আঁধার ঘোনা ও মিজ্জির পাড়া দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আস্তানা গড়ে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত সন্ত্রাসীদের দখলবাজী ও গুপ্ত হত্যা বন্ধ করতে উক্ত আস্তানা উচ্ছেদে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে যৌথ বাহিনী।
র্যাব- ১৫ কক্সবাজার ক্যাম্পের সিইও কামরুল হাসানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এই অভিযানে র্যাব-ছাড়াও শতাধিক নৌবাহিনী, পুলিশ সদস্য অংশ নিয়েছেন।
আজ ১১ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত টানা ৭ ঘন্টা অভিযানে অন্তত ৫টি সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুড়িয়ে দিয়েছেন যৌথ বাহিনী।
তবে সুবিশাল গহীন পাহাড় হওয়ায় বড় অভিযানেও ভ্রাম্যমান অক্ষত থাকা অস্ত্রের কারখানা পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি অভিযানকারীরা। গ্রেপ্তার করতে পারেনি দ্বীপের দাগী সন্ত্রাসীদের এমনটি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এসময় ১০টি দৈশিয় তৈরি অস্ত্র ও কার্তুজসহ রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে স্থানীয় অর্ধশতাধিক সাধারণ মানুষ যৌথ বাহিনীকে সহযোগিতা করেছেন বলে র্যাব জানিয়েছেন।
যৌথ বাহিনীর দফায় দফায় সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্থি ফিরতে শুরু করেছে। তবে অনেকে বলছে মহেশখালী থানার ওসি মঞ্জুরুল হকের নেতৃত্ব অস্ত্রসহ দাগী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে তাক লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
দ্বীপের বাসিন্দারা জানান, পাহাড়ের চারদিকে সাগর বেষ্টিত হওয়ায় একদিকে অভিযান শুরু করলে সন্ত্রাসী ও অস্ত্রের কারিগরা গহীন পাহাড়ের অন্যপ্রান্তে চলে যায়। তাই সহজে সবাইকে গ্রেপ্তার করা সম্ভাব হয়না। তাই শাপলাপুর অংশসহ বৃত্তের ভিতর রেখে পুরো পাহাড়ে ভোর রাত থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থেমে থেমে অভিযান করলে সন্ত্রাসীদের আটকের পাশাপাশি দ্বীপের অস্ত্রের কারখানা স্বমুলে নির্মূল হবে। সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত এসব সন্ত্রাসীদের মহড়ার অভিযোগ আছে। সেখান থেকে সুযোগ বুঝে মৎস্য ঘেরে হানা দিয়ে মাছ ডাকাতির মত ঘটনা ঘটাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
জুলাই অভ্যুথানে নিহত শহীদ তানভীর ছিদ্দীকির বড় ভাই মিজানুর রহমান মাতাব্বর অভিযান পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে জানান, আমার ছোট ভাই শহীদ তানভীর ছিদ্দিকী ও চাচা তোফায়েল হত্যার দুর্ধষ আসামীরা গডফাদার তারেক, নোমান, লম্বা তারেক, কালাবদার নেতৃত্বে ফকিরজুম পাড়া পাহাড়, নোনাছড়ি গোদার পাড়া ও আধাঁর ঘোনা দুর্গম পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে সেখানে টংঘর তৈরি করে অস্ত্রের কারখানা গড়ে তুলেছিল। দ্বীপজুড়ে বেশ চাঞ্চল্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে র্যাবের এ দুঃসাহসিক অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দ্বীপের সাধারণ মানুষ।
কক্সবাজার র্যাব-১৫ অধিনায়ক (সিইও) মোহাম্মদ কামরুল হাসান অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুড়িয়ে দিয়েছে বলে জানান, যতদিন পর্যন্ত দাগী সন্ত্রাসীদের গডফাদার তারেক ও রশিদকে গ্রেপ্তার করা হবেনা ততদিন পর্যন্ত পাহাড়ে চিরুনি অভিযান চলবে।
Good news
Good