৩১ অক্টোবর, ২০২৬
Md Ashikur Rahman,
ছবি: বক্তব্য রাখছেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা জনগণের সাত দফা দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছি। জনগণ আমাদের সাথে থাকলে ইনশাআল্লাহ সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব।’
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা এলাকায় ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের প্রথম পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘সাত দফা দাবির প্রথমটি হচ্ছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন। জনগণ ভোট দিয়েছে, কিন্তু সরকার সেই রায় মানছে না। এর মাধ্যমে সরকার জনগণকে অপমান করছে এবং তাদের সাথে প্রতারণা ও মিথ্যাচার করছে। সরকার জনগণের ওপর স্বৈরশাসন চাপিয়ে দিতে চায়। কিন্তু আমরা তা কোনোভাবেই মেনে নেব না। সরকারের এ ধরনের সব অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘খালি হাতে বুকে গুলি নেয়া এই জাতি কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না। জনগণের রায় উপেক্ষা করে অন্যায় চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা এ জাতি মেনে নেবে না।’
সাত দফা দাবি আদায়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আপনারা শক্ত থাকবেন, আমাদের সাথে থাকবেন। ইনশাআল্লাহ জনগণের দাবি আদায় হবে।’
পথসভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘কার্ডের মাধ্যমে ধোঁকাবাজি বন্ধ না করলে জনগণ আপনাদের লাল কার্ড দেখাবে। কার্ড বাদ দিয়ে জনগণের অধিকার আদায়ে সহযোগিতা করুন।’
তিনি এক দফা দাবি আদায়ে ১১ দলের ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘লংমার্চে লাখো মানুষ আপনাদের লাল কার্ড দেখিয়েছে। সাত দফা দাবি মেনে না নিলে এবং সংবিধান সংস্কার না করলে এ দেশের জনগণ লংমার্চের মাধ্যমে লাল কার্ড দেখিয়ে আপনাদের ক্ষমতা থেকে সরানোর ব্যবস্থা করবে।’
বাংলাদেশ খেলাফাত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দীন বলেন, ‘বর্তমান সরকার ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসে তাদের চেহারা পাল্টে ফেলেছে। একই দিনে দুটি ভোট হয়েছে, যার একটি বৈধ, অন্যটি অবৈধ। হাসিনার মতো প্রতারণা করলে দেশের জনগণ আপনাদের ক্ষমতায় রাখবে না। এখনো সময় আছে, ১১ দলের সাত দফা দাবি মেনে নিয়ে দেশের মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিন।’
পথসভায় সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর শরীয়তপুর জেলা আমির অধ্যক্ষ মো: আব্দুর রব হাসেমী বলেন, ‘শরীয়তপুরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নেই, পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা থাকলেও রেললাইন নেই এবং মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নেয়া হয়নি।’
এসব অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি জাতীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় পথসভায় আরো বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবসহ ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতারা।