১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
ছবি: মাধবপুরের ইউএনও জাহিদ বিন কাসেম
হবিগঞ্জের মাধবপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেমের নির্দেশে ‘নিশান’ নামের একটি এনজিওর মালিকানাধীন বিপুল পরিমাণ জমি ও সম্পদের রেজিস্ট্রেশন আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার যুক্তিতে নেওয়া এ সিদ্ধান্তে রেজিস্ট্রেশন করতে আসা শতাধিক ভুক্তভোগী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই জানান—টাকা হারিয়ে দিশেহারা হওয়ার পর এখন জমির রেজিস্ট্রেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ হতাশায় আত্মহত্যার ঘোষণাও দিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, গ্রাহকদের বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের মামলায় অভিযুক্ত নিশান এনজিওর মালিকপক্ষ গোপনে সম্পদ বিক্রি করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছিল। এমন পরিস্থিতিতে ইউএনও সাময়িকভাবে তাদের সম্পত্তির দলিল রেজিস্ট্রেশন বন্ধ রাখতে মৌখিক নির্দেশ দেন। নির্দেশের পর সাব-রেজিস্ট্রার মাসুদ রানা সব রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম স্থগিত করে দেন।
রেজিস্ট্রেশনপ্রত্যাশী আউশ চৌধুরী, আক্কাস মিয়া, মোশারফ আলীসহ অনেকে অভিযোগ করেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই দলিল বন্ধ রাখায় সাধারণ মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
তাদের দাবি—এ সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, এতে “পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ” তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রেজিস্ট্রেশন বন্ধ থাকলেও নিশানের কিছু সম্পত্তি আবার গোপনে রেজিস্ট্রি করা হচ্ছে, কিন্তু এ নিয়ে প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই। এতে প্রশাসনের একটি অংশের সঙ্গে যোগসাজশের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা।
স্থানীয় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বলেন, ইউএনও’র রেজিস্ট্রেশন বন্ধ রাখার কোনো এখতিয়ার নেই। কোনো সম্পত্তি জব্দ করতে হলে দুদকের মাধ্যমে আদালতের নির্দেশ নিতে হয়।
আইনশৃঙ্খলার অজুহাতে রেজিস্ট্রেশন বন্ধ রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি বলে তিনি মন্তব্য করেন। ভুক্তভোগীরা চাইলে তিনি তাদের হয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করতে প্রস্তুত বলেও জানান।
তবে ইউএনও জাহিদ বিন কাসেম দাবি করেন, ভুক্তভোগীদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই সাময়িকভাবে রেজিস্ট্রেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। তার মতে—সব সম্পদ বিক্রি হয়ে গেলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হবে। তিনি বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বরের পর বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সাব-রেজিস্ট্রার মাসুদ রানা জানান, তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন এবং ইউএনও’র নির্দেশে সাময়িকভাবে রেজিস্ট্রেশন স্থগিত রাখা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে রেজিস্ট্রেশন করতে তার কোনো আপত্তি নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন ফোনে জানান, ইউএনও’র জমি রেজিস্ট্রেশন বন্ধ রাখার আইনি ক্ষমতা নেই। তিনি পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
নিবন্ধন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. আশরাফুজ্জামানও বলেন, আইনশৃঙ্খলার অজুহাতে রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করা গ্রহণযোগ্য নয় এবং সাব-রেজিস্ট্রারের এমন নির্দেশ মানার কথা নয়। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
রেজিস্ট্রেশন স্থগিতের ঘটনায় মাধবপুরজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মতে—যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করার ফলে বড় ধরনের অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত সমস্যার সমাধান ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
Good news
Good