০২ Jun, ২০২৬
আঃ হালিম সরদার,
ছবি: গফরগাঁওয়ের পাগলা থানায় জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধ্বীন নিগুয়ারী ইউনিয়ন জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান শেষে বিএনপি পরিচয়ধারী কতিপয় নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল সোমবার (১জুন) পাগলা থানার সামনে থেকে বিক্ষোভ সমাবেশে আয়োজন করেন পাগলা থানা জাময়াতে ইসলামীর নেতারা।
এতে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা অংশগ্রহণ করেন। এর আগে গত ৩০ মে নিগুয়ারী ইউনিয়ন জামায়াতের স্থানীয় কার্যালয়ে সংগঠনের আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা করেছিল বলে জানা গেছে।
পাগলা থানা আমীর মাওলানা এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে ও সহকারী সেক্রেটারি আতিকুর রহমান হীরার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ময়মনসিংহ-১০ আসনের জামায়াত জোটের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও গফরগাঁও উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ইসমাঈল হোসেন সোহেল। সাবেক ছাত্রনেতা ও ঢাকা ওয়ারী থানা জামায়াতের আমীর মোতাসিম বিল্লাহ, সাংবাদিক মোফাজ্জল আনসারী এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসমাঈল হোসেন সোহেল বলেন, “২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর গফরগাঁওয়ের মাটিতে আর কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঠাঁই হবে না। আমরা সহাবস্থান ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে নিগুয়ারীতে দীর্ঘদিন ধরে একটি সন্ত্রাসী চক্র জামায়াতের নিরীহ কর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে।
বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের কাছেও দুইবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “এসব সন্ত্রাসী চক্র মাদক ব্যবসা, বিল ও জলাশয় দখল, বালু মহাল নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের রাজত্ব কায়েম করেছে।
প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া, মামলা থাকার পরও অবাধে ঘুরে বেড়ানো এবং অপরাধীদের প্রতি রহস্যজনক প্রশ্রয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের নীরবতা ও ব্যর্থতার কারণেই আজ মানুষ রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছে। অবিলম্বে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের ভূমিকার প্রতিও তীব্র অসন্তোষও প্রকাশ করেন তিনি।
সাবেক ছাত্রনেতা মোতাসিম বিল্লাহ স্থানীয় এমপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি কোনো দলের এমপি নন, আপনি সমগ্র এলাকার জনগণের প্রতিনিধি। দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের কল্যাণে কাজ করুন। অন্যথায় জনগণই এর উপযুক্ত জবাব দেবে।”
সমাবেশের সভাপতি ও পাগলা থানা জামায়াতের আমীর মাওলানা এমদাদুল হক বলেন, “প্রশাসনের ব্যর্থতা ও নীরবতার কারণেই আমরা আজ প্রকাশ্যে কথা বলতে বাধ্য হয়েছি। সন্ত্রাসীদের লাগাম টানতে ব্যর্থ হলে প্রশাসনের দায় জনগণের সামনে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে। যারা বারবার হামলা, ভয়ভীতি ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।”
স্থানীয় এমপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আপনি প্রায় ৭৪ হাজার ভোটে নির্বাচিত হলেও আপনার বিপক্ষে ১ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ ভোট দিয়েছে। তাই এখন সময় এসেছে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সকল মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের। অন্যথায় জনবিচ্ছিন্ন রাজনীতির পরিণতি শুভ হবে না।” পরে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে বিক্ষোভ সমাবেশের কার্যক্রম শেষ হয় ।