১২ অক্টোবর, ২০২৬
মোঃ আয়ুব মিয়া,
ছবি: সংগৃহীত
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে এ কার্যক্রম পরিচালনায় তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার মিলিয়ে মোট ৯৬ জন কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাসেল চৌধুরী।
সোমবার (১২ অক্টোবর) তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করে উপকারভোগী নির্বাচনের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হবে। মঙ্গলবার বদুর পাড়া শাহী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ। এতে সভাপতিত্ব করবেন চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান এবং স্বাগত বক্তব্য দেবেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাসেল চৌধুরী।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভায় তথ্য সংগ্রহের জন্য সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নির্বাচন করা হয়েছে। ৬ আগস্ট প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, উত্তীর্ণ ও রিজার্ভসহ সুপারভাইজার ১০ জন এবং তথ্য সংগ্রহকারী ৯৬ জন—সব মিলিয়ে ১০৬ জনের তালিকা রয়েছে। তবে কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন ৯৬ জন।
রাসেল চৌধুরী জানান, উদ্বোধনের দিন ১৫ জন কর্মী দিয়ে কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে পুরো উপজেলায় তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তবে চন্দনাইশে কতটি পরিবার এ কর্মসূচির আওতায় আসবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের পর যোগ্য উপকারভোগীর সংখ্যা নির্ধারিত হবে।
তিনি আরও জানান, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন কারণে নিজ এলাকার বাইরে বসবাসকারী পরিবারগুলোর বর্তমান ঠিকানায় তথ্য সংগ্রহের বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছে সরকার। দেশের যে এলাকায় কোনো পরিবার বসবাস করছে, সেখান থেকেই তাদের তথ্য সংগ্রহ ও তালিকাভুক্তির ব্যবস্থা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চন্দনাইশের পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার পরিবারগুলো যেন তথ্য সংগ্রহের বাইরে না থাকে, সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দোহাজারী ও ধোপাছড়িসহ দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করে তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা।
তথ্য সংগ্রহে কোনো যোগ্য পরিবার বাদ পড়লে তা কীভাবে শনাক্ত করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে রাসেল চৌধুরী বলেন, কমিটির মাধ্যমে তথ্য যাচাই ও যোগ্যতা নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
পুরো কার্যক্রম শেষ করার সময়সীমা সরকারের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে। চন্দনাইশে এ কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নে দুর্গম এলাকার পরিবার, কর্মসূত্রে অন্যত্র বসবাসকারী মানুষ এবং প্রকৃত অসচ্ছল পরিবারগুলোর তথ্য যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা এখন মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্টদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কর্মসূচির আওতায় পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা মূল্যায়ন করে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত অসচ্ছল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো যাতে বাদ না পড়ে, সে জন্য সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও স্বচ্ছ যাচাই-বাছাই গুরুত্বপূর্ণ।