০৪ মার্চ, ২০২৬
ছবি: ভুক্তভোগী আলেয়া চৌধুরী ও শিরিন রহমান
জমির নামজারি ও খারিজ সম্পন্ন, রেকর্ড মীমাংসিত—সব কাগজপত্র ঠিক থাকলেও নিজস্ব জমিতে প্রবেশ করতে পারছেন না এক শিক্ষকের স্ত্রী ও কন্যা।
অভিযোগ, মোটা অংকের চাঁদা না দেওয়ায় দুর্বৃত্তচক্র তাদের বাধা দিচ্ছে এবং হুমকি প্রদান করছে।
ঘটনাটি বাহুবল উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের মহিষদলং গ্রামে। স্থানীয় মরহুম শিক্ষক কদর আলীর স্ত্রী আলেয়া চৌধুরী ও কন্যা শিরিন রহমান জানান, তাদের ওয়ারিশান সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তিতে সম্প্রতি প্রবেশ করতে গেলে একটি চক্র চাঁদা দাবি করে। অভিযোগ রয়েছে, একটি রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে।
বর্তমানে আলেয়া চৌধুরী তার মেয়ের বাড়িতে, মাধবপুর উপজেলার মনতলা বাজার এলাকায় অবস্থান করছেন। নিজেদের মালিকানাধীন জমিতে প্রবেশে বাধা ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ জানিয়ে তারা সাংবাদিকদের কাছে প্রতিকার চেয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাহুবল উপজেলার মহিষাদী মৌজার ১০৯ নম্বর দাগের প্রায় ৬ শতাংশ জমি মা-মেয়ের নামে খারিজ করা রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় মৃত মুজিবুলের ছেলে জসিম ও আলামিন বিভিন্ন জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে জমির মালিকানা দাবি করছেন এবং সেটিকে হাইওয়ে সম্প্রসারণ (ছয় লেন) প্রকল্পের আওতায় জেলা প্রশাসকের কাছে বিক্রি হয়েছে দাবি করে অর্থ উত্তোলনের পায়তারা করছেন।
অন্যদিকে একই মৌজার ২৯৯ ও ২২৬ নম্বর দাগের প্রায় ৮ শতাংশ জমি স্থানীয় মিন্টু মোল্লা ও রমজান মিয়া জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগীরা জানান, সেখানে গেলে তাদের চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
আলেয়া চৌধুরী বলেন,
“আমি কোন দেশে বাস করছি? আমার স্বামীর সম্পত্তি আমি পাচ্ছি না। বাধ্য হয়ে মেয়ের কাছে আশ্রয় নিয়েছি। আমি কি এর বিচার পাব না?”
শিরিন রহমান বলেন,
“নতুন সরকারের কাছে আমার মালিকানার জমির দখল চাই। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা নিজেদের জমির মালিক দাবি করলেও কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন,
“তাদের এই কর্মকাণ্ড মানবাধিকারের লঙ্ঘন। আমরা চাই প্রকৃত মালিকদের জমি বুঝিয়ে দেওয়া হোক।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Good news
Good
wonderful news