১৪ মার্চ, ২০২৬
মোঃ সাইফুল ইসলাম,
ছবি: শিল্পী আক্তারের ছবি
৩৫ বছর বয়সী শিল্পী আক্তার মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চরম অর্থকষ্টে চিকিৎসাবঞ্চিত দিন কাটাচ্ছেন।
ইতোমধ্যেই চিকিৎসার ব্যয় সামলাতে গিয়ে হত-দরিদ্র পরিবারটি প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। শিল্পী আক্তারকে বাঁচাতে হত-দরিদ্র পরিবারটি চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান, মানবিক মানুষ ও
প্রবাসীদের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। শিল্পী আক্তার টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর বিলপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল হাইয়ের মেয়ে।
জানা গেছে, শিল্পী আক্তারের প্রায় ৮ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের তিন বছর পর হঠাৎ করে তার ব্রেস্টে ব্যথা শুরু হয়। পরে তাকে টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। সেসময় তার ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়ে।
এক পর্যায়ে শিল্পী আক্তার তার স্বামী মুদি দোকানের কর্মচারী ফারুক হোসেনকে নিয়ে বাবার বাড়ি উপজেলার কাঞ্চনপুর বিলপাড়ায় চলে আসেন।
এরপর প্রায় এক বছর আগে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে তার ব্রেস্ট অপারেশন করে কেটে ফেলা হয়। বর্তমানে ঢাকায় ক্যান্সার হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।
চিকিৎসা করাতে গিয়ে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা খরচ করে প্রায় নিঃস্ব হয়েছে এই অসহায় পরিবারটি। ব্যয়বহুল চিকিৎসার চাপ সামলাতে গিয়ে পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে। নিত্যদিনের সংসার চালাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা চালানো তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
এদিকে, সম্প্রতি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন শিল্পী আক্তার। কিন্তু ‘ভাগ্যের কি পরিহাস’ টাকাগুলো বাসাইল শহরের সোনালী ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে বাড়িতে নিতে পারেননি। ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে বের হওয়ার সময় একটি চক্র শিল্পী আক্তারকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে টাকাগুলো ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ক্যান্সার আক্রান্ত শিল্পী আক্তার বলেন, ‘বিয়ের তিন বছর পর আমার ব্রেস্টে ব্যথা শুরু হয়। সেসময় টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসক জানায় ব্রেস্ট ক্যান্সারের কথা। এরপর বছর খানেক আগে মির্জাপুরের কুমুুদিনী হাসপাতালে ব্রেস্ট অপারেশন করে কেটে ফেলা হয়। ঢাকায় ক্যান্সার হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হয়েছে।
এ পর্যন্ত ৮টি কেমোথেরাপি ও ৭টি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। এখন ডাক্তার বলছে রেডিওথেরাপি দিতে হবে। আমার স্বামী মুদিদোকানে কর্মচারির কাজ ও আমি নিজেও ছাগল লালন-পালন ও পাটি তৈরি করে সংসার চালাচ্ছিলাম। ক্যান্সার ধরা পড়ার পর স্থানীয় বিভিন্ন লোকজনের আর্থিক সহযোগিতায় এ পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়েছি। এক পর্যায়ে আমি বাবার বাড়িতে চলে এসেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাঁচতে চাই। কিন্তু বাঁচার জন্য চিকিৎসা জরুরি। এখন চিকিৎসা নেওয়ার মতো আমার পরিবারের টাকা নেই। এ পর্যন্ত ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। ডাক্তার বলছেÑ এখন চিকিৎসা নিতে আরও ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা লাগতে পারে। এত টাকার জোগান দেওয়ার মতো আমাদের সামর্থ নেই। দেশ ও দেশের বাইরের সকল মানবিক ও বিত্তবান মানুুষদের কাছে আমার অনুুরোধÑ আপনাদের যাকাতের টাকা থেকে হলেও আমাকে আর্থিক সহায়তা করে আমার চিকিৎসা করাতে সহযোগিতা করবেন।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। কিন্তু এ বিষয়ে কেই আমার কাছে আসেনি। তাকে পরিষদের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা করবো।’
এদিকে, দেশের বিত্তবান, মানবিক ও প্রবাসীসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন শিল্পী আক্তারের পরিবার। তাকে আর্থিক সহায়তা পাঠাতে বিকাশ নম্বর- ০১৭৪৫১৮৮৮৩৬। এছাড়াও ব্যাংক হিসাব নম্বর: ৬০০২০০১০২২২৬৩, সোনালী ব্যাংক, বাসাইল শাখা, টাঙ্গাইল।